শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০০৯

সন্তানের প্রলাপ

সন্তানের প্রলাপ

এদেশ যদি কারো বাবার অথবা কারো স্বামীর
    চিরস্থায়ী সম্পত্তি হয়,
      -তবে মা ! -আমরা কারা ?
-তবে কি আমার বাবা এদেশের নয় ?
  -তবে কি তোমার স্বামীর দেশ এটা নয় !
    -ভিনদেশি আমরা তবে !--
-আজও এখানে আছি কোন্ লজ্জায় ?
তোমাকে অতিথি হিসেবে সম্মান দিতেও
                       এরা জানে না মা।
চলো মা, -যথেষ্ট থেকেছি, -আর না,
    -দখল নিয়ে ওদের কাড়াকাড়ি
 নিত্য কাদা-ছোড়াছুড়ি দেখার চে’
   চলো আমরাই স’রে যাই ;
      ভিনদেশি দর্শকের ভিড় কমুক,
    -শান্তিতে ওরাই থাকুক বেঁচে।
ওঠো মা, চলো, এখনো সহযাত্রী পাবে।
 তুমি আমার বাবার খোঁজে যাবে,
  -সঙ্গে আমরা যাবো তোমার স্বামীর দেশে,
      -এখানে আর থাকতে চাইনে মা।
স্মরণকাল থেকে এখানেই খেয়ে-পরে আছি,
       --যাবার কালে অকৃতজ্ঞ হবো না মা ;
-ওদের জন্য শুভকামনা রেখে যাবো ;
-ওদের বিগত-বর্তমান স্বামী আর প্রয়াত পিতার জন্য
   কামনায় প্রার্থনায় শান্তি চেয়ে নেবো,
    --তবু চলো মা, -গণবহরের সাথে চলো,
     -মিথ্যে আশায় কাঙালের মতো লটকে থেকো না।
ওরা তোমার সম্মান দেয়নি, দিচ্ছে না, দেবে না,
 -নিজের ‘মৃত-ভাইয়ের-মাংস-ভক্ষণ’-এর চেয়েও
     বীভৎস কীর্তি দেখে দেখে ঘেন্না ধরেছে মা,
         -যথেষ্ট দেখেছি, তারও বেশি থেকেছি,
           -চলো মা, -এভাবে আর থাকা যায় না।

রঙ্গপুর -   ২২/১১/২০০৩ খ্রি:   


অভিধান দর্শন

‘শোনো পিতা, তোমাকে হত্যা ক’রে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- মু-- ... ’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো পতি, তোমাকে প্রাণে মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- জি-- ...’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো চাচা, তোমাকে ধাক্কা মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- হো-- ...’শাদ মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো দাদু, তোমাকে ধ’রে বেঁধে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- গো-- ...’জম মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো ভাই, তোমাকে না-দিয়ে ঠাঁই ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- রা-- ... ’নন মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো বাবা, তোমার তরিকা না-মেনে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, - ফতোয়াবাজ মানেই বাংলাদেশ ॥’.. ..

মুসাফির বুঝলো, --কলাগাছ মানে এখানে ঐরাবত বাহিনী ;
তবে, সকল অভিধান সমন্বিত রচিত বিধান
খুঁজে খুঁজে পেলো মুসাফির, --অজ্ঞরাই আঘাতকর্মী,
মানবসন্তানকে আঘাতকারীরা নিঃসন্দেহে মানুষের বিপরীতধর্মী।
--মুসাফির আরও খুঁজে পেলো, -ক্ষৌণীশ মানে মানবসন্তান।
.. ... ....অমনি!  আবারো শোনালো সেই অরণ্য কাহিনী --
  --(“-‘প্রসবোত্তর-বেদনাক্লান্ত’ জননীদশা  দর্শনে,
        সদ্যোজাত প্রভূ-শাবকের চিঁ চিঁ ডাক শ্রবণে, -
        কপট বায়স প্রসারিত পেখমে নৃত্যে উন্মত্ত ;
        সমকালে, -নৃ-ধামের অদূরে অরণ্য প্রকম্পিত,
        -ক্ষণে ক্ষণে সেয়ানা মার্জারের অর্থহীন গর্জন,
                সারমেয় দখলে নেয়, --গজপৃষ্ঠাসন।
          -প্রভূ-শাবকেরা আত্মপরিচয় নিয়ে দাঁড়ালে,
        উলঙ্গ পোষ্য জীবকূল স’রে যায় আড়ালে।”)--

ঘাম-ঝরা কর্মক্লান্ত নীরব জনগণ মন দিয়ে শোনে
 আর নিজেদের জাগরণের অপেক্ষায় দিন গোণে।
কখনো বা লজ্জায় তারা আপন মনে গায়,-
         ‘মানছি এটা তোমার বাবার দেশ।
          মানছি এটা তোমার স্বামীর দেশ।
           ভিনদেশি আমরা তাহলে এসে,
            -জন্মেছি ! -মায়ের ভাইয়ের দেশে !
              --তাই যদি হয়, -সরল সমাধানে
          আমরা তবে সম্মানিত অতিথি  এখানে
           মামা আর মামাতো বোনের দেশে
            অতিথিরা যথারীতি মর্যাদা পেতে চায় ;
              অতিথিরা তোমাকে ব্যস্ত দেখতে চায় ;
            -নিত্য আনন্দিত ব্যস্ত অতিথি সেবায়।’

(রঙ্গপুর  --২৮/০৮/২০০৪)


   

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০০৯

বৈধভাষণ

মালিকানা সমাচার   
 

মালিকদের আত্মসম্মানবোধ
  এবং নিরপেক্ষ অভিভাবকত্ব
    প্রদর্শনের ক্ষমতা না-থাকলে
      প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ থাকে না
      এবং প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকে না ॥
প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিলে
  মালিকের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব বেদখল হবে
          এবং, -বেদখল না-হওয়াটাই অবাস্তব ॥
মালিকদের অজ্ঞতা অথবা অন্ধ-পক্ষপাতিত্ব
      প্রতিনিধিদের সচ্চরিত্রকে নষ্ট করে ; -যেভাবে,
      -জ্ঞানীরাই জ্ঞানপাপী হয় জগৎ-সংসারে ॥
জ্ঞানপাপীরা সর্বকালে আত্মাহুতিপ্রবণ ॥
মালিকের অজ্ঞতা জ্ঞানপাপীদের কাম্য ॥
মালিকদের অজ্ঞতায় দুর্বৃত্তেরা
যে-হারে ‘অবৈধ প্রতিপত্তি’ লাভের সুযোগ পায়,
         --তারও চে’ বেশি হারে
                         বৃদ্ধি পায় আত্মঘাতি লোভ ॥


অজ্ঞ মালিকদের যত কর্মীবাহিনী,
           -বেতনভোগী চাকর,
  -যেমন, -আমলা, কামলা, কর্মচারী,
   --পদবীগুলোর অর্থের সুবিধামতো বিকৃতিকারীরা
       ‘কর্মী’ পদবীটা ঢেকে রেখে রেখে কৌশলে
          কর্তা, প্রশাসক ইত্যাদি পোশাকি পদবীর জোরে
             সুযোগ পেলেই দাবি করে মালিকানা ;-
তেমনি, -উৎপাদক, ফড়িয়া, দালাল, জাগতিক ব্যবসায়ী,
 ঠিকাদার, বুদ্ধিজীবী, যুক্তিজীবী, বিধান-ব্যবসায়ী,
 -সকলেই, -সমান সুযোগে আহ্লাদে আটখানা ;
    --যেখানে আসল মালিকেরা অজ্ঞ অচেতন,
          --অস্থায়ী মালিক সাজে দখলদার নকলেরা ॥

আত্মপরিচয় না-জানলে আসল মালিকেরা
 যোগ্য অভিভাবক হ’তেই পারে না,
 -নকলদের কোন্দল থামাতে পারে না তারা,-
সমকালে দেখা যায়,--
 -যেকোনো ভাবে কখনো দখলে নিতে পারলেই
   নকলেরা সহজে অস্থায়ী দখল ছাড়তে চায় না ॥
অথচ, -যদিও সকলে জানে,
     সংবিধান, --সাধারণের স্বার্থরক্ষী হ’লে
     অবৈধ দখল বেশিক্ষণ ধ’রে রাখা যায় না ॥

যথারীতি, -জ্ঞানপাপী দখলদার নকল মালিকেরা,
 --কেউ কাউকে মালিক মেনে নেয় না ;
  -সহ্য করে না কেউ কারো খবরদারি।
--তবুও,-নকলদের চেষ্টা সমান তালেই চলে,
 -যাতে আসলদের অজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী থাকে ;
  -যেন মালিকদের জ্ঞানান্ধকারের সুযোগে
                           মেতে থাকা যায়
                  সুবিধাভোগের নিত্য কোন্দলে ॥
অজ্ঞ মালিকদের জন্য জ্ঞানান্ধকারে থাকা
  কোনো যন্ত্রণার বিষয় নয়,
  বরং,--জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী উভয়ের ক্ষেত্রেই
      জ্ঞানান্ধকারের পাশে থাকা মহাঝুঁকিময়।
অজ্ঞ মালিকদের হিংস্রতা
  হিংস্রতম জ্ঞানপাপীদের চেয়েও হিংস্রতর ॥
মালিকের অজ্ঞতা ভীষণ ভয়ঙ্কর ;
 -হারানো মালিকানা ফিরে পাবার জন্য
    সময়ে সময়ে হঠাৎ যখন জাগে তারা,
   -পূর্বাভাস না-দিয়েই জাগে অজ্ঞ-জনগণ !
    -দয়া-মায়া-করুণা ভুলে যায়,
     --ভুলে যায় তারা কেবা তাদের পর
   আর কে-ইবা তাদের আপনজন !!-
  --অথচ ! -ঐ মালিকেরাই,--যেখানে,
   জ্ঞানপ্রাপ্ত সাধারণ জনগণ,-
    -নিজেদের অধিকার জ্ঞানে জ্ঞানী-সচেতন,-
     --সভ্য-ভদ্র-মার্জিত তারা,-এবং তারাই
            সমন্বিতরূপে গঠনমুখী অভিভাবক ;
       --ঐ মালিকেরাই নিরপেক্ষ বিচারক ॥

-(১৭/০১/২০০৪ খ্রি:)


গণ-ভূখণ্ড সরকার

সকল মালিকানা সর্বময়  মালিকের।
 তবে,-কোনো ভূখণ্ডের জাগতিক মালিকানা
   ঐ ভূ-খণ্ডের সরকারের, অর্থাৎ,-নির্বিশেষ  সাধারণের,
  অর্থাৎ জনসাধারণের ;-ঐ ভূখণ্ডের জনগণের ॥
নির্বিশেষ-দলীয় জনগণ  অর্থাৎ সরকার  তার ভূখণ্ডকে
  মানুষের বাসোপযোগী ক’রে সাজানোর জন্য
মানুষের মধ্য থেকেই প্রতিনিধি  মনোনীত করে ॥
সরকার সর্বোচ্চ  জাগতিক ক্ষমতার ধারক,-অর্থাৎ,
            -জনগণ সর্বোচ্চ  জাগতিক ক্ষমতার ধারক।
-তাই জগতের কারো কাছে কখনোই
  সরকারকে,-অর্থাৎ জনগণকে
   জবাবদিহি করতে হয় না ;
--কিন্তু,-গণমালিকের কাছে অর্থাৎ জনগণের কাছে
  জনপ্রতিনিধিরা অর্থাৎ সরকারের প্রতিনিধিরা 
                           জবাবদিহি ক’রে যেতে বাধ্য।
এবং,-জবাবদিহি না-করলে সেই প্রতিনিধি
  স্বেচ্ছাচারিতার অপরাধের অপরাধীরূপে চিহ্নিত হয় ॥

জনগণের ক্ষতি করতে চেয়ে, -কোনো জনপ্রতিনিধি,
       -স্মরণকাল থেকে আজ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।
  -স্বেচ্ছাচারী প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারকে যদিওবা
            কিছুকালের জন্য সরকার  সহ্য করে,
          --অনন্তকাল-ব্যাপী সহ্য করে না ;
--অতীতেও সহ্য করেনি, -ভবিষ্যতেও করবে না।
(দূরে-কাছে-সামনে-পিছনে-ডানে-বাঁয়ে এবং উপরে-নিচে   
                     বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত নিদর্শনগুলো দর্শনীয় 
)
কোনো ভূখণ্ডের সরকার   অর্থাৎ  জনসাধারণ
 আত্মভোলা হ’য়ে অথবা নিজেদের পরিচয় না-জেনে
  তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদেরকেই ‘সরকার’ বললে
   অথবা সরকার মনে করলে, -লোভনীয় সুযোগটা
    খুব কমসংখ্যক জনপ্রতিনিধি ছেড়ে দেবে ;
   -এবং, --ঐ সুযোগে
       সরকারের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ
        জেনে অথবা না-জেনে সরকার  সেজে
         সর্বোচ্চ জাগতিক ক্ষমতার  ধারকরূপে
          স্বেচ্ছাচারি-কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হ’লে,
      -একটা সুনির্দিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত,
       --তাদেরকে ক্ষমা করা যায় ;
    --কিন্তু, -অজ্ঞ জনসাধারণত্ব  অথবা
           গণসরকারের অজ্ঞতা  ক্ষমা পেতে পারে না।   

   -আমি আমার বিচার দাবি করি সর্বমান্য বিচারক,
   আমি চাই সম্পদের উৎসে উপচানো  এই ভূ-খণ্ড
   প্রগতিশীল জ্ঞানী মানুষের বসবাসের যোগ্য হোক।
   আমি চাই এখানে আসুক গোটা বিশ্বের পথিক-পর্যটক ॥
 

আমার মতো অজ্ঞ জনসাধারণের শাস্তি দাবি করি ;
--চাই জ্ঞানীদের চাবুকের আঘাত কিম্বা ফাঁসির দড়ি ॥
**--***---*********---------

( -ছন্দ মেলেনি মানি
   -দয়া ক’রে গর্বিত-পণ্ডিতেরা থামাবেন কানাকানি
    অজ্ঞ আমি বুলি আওড়াই   
    ছন্দের মিল-অমিলের কী-ই বা জানি
    কোনো কাব্যবিশারদ কোনো পাঠচক্রে ব’সে
    স্বজনদের কাছে পাঠানো বিলিপত্রখানাকে যেন
    কাব্যমানসূচকনির্ধারক কষ্টিতে ফেলে না-ঘষে।
)

রঙ্গপুর     -  ০৪/০১/২০০৪ খ্রি: 



বৈধভাষণ : দুই
ভিক্ষাবৃত্তিহীন স্বনির্ভর কর্মজীবী লোকালয়ে
 মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির প্রতি
--
 

“প্রমাণিত হয়েছে এবং আমরা মেনেও নিয়েছি
        আপনি সার্বিক মানবকল্যাণ চান ; -
   -আমরা যথারীতি যথাস্থানে পাঠাচ্ছি আপনাকে।
এরপর, -করণীয় কর্ম কী হবে আপনার?
 -অতিব্যস্ত হ’য়ে নিজের পছন্দমত সুন্দর কিছু
    জোর ক’রে অন্যদের ওপর চাপাতে চাইবেন নাকি !?
অথচ, -যখন, -প্রতিনিধি, আপনি জানেন না,
 -নিঃসন্দেহে আপনি জানেন না যে
   কিসে আমাদের সার্বিক কল্যাণ !!
সকলের কিম্বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণের  কল্যাণ কোথায়,
 -তা’ জনে জনে জিগ্যেস ক’রে ক’রে জেনে নেবার
   সুযোগ বা সময়, -যদি না-থাকে নাগালে !
  -আপনার নাগালে, -সম্মানিত প্রতিনিধি !!
তাহলে কি এটাই যথেষ্ট নয়, -আত্মরক্ষার জন্য
  শুধু এতটুকু লক্ষ্য রেখে যাবেন,
  এবং আমরাও দেখবো,
  -গণমালিকের কল্যাণ হোক্ বা না-হোক,
   --অন্তত, আপনার সজ্ঞান কর্মকাণ্ডে
     কখনোই যেন কারো অকল্যাণ না-হয় !? -...

দেখা যায়, -এভাবেই, -জনগণের উচ্চারণ
‘সভ্য-জগতে’ জনপ্রতিনিধিকে
  নিয়ন্ত্রিত-সুরক্ষিত রাখে,
 অথবা, -সতর্কীকরণের ভঙ্গিতে  শাসন করে।
অর্থাৎ, জনগণ জাগ্রত হ’লে
     রক্ষক জনপ্রতিনিধি ভক্ষক হ’তে পারে না ॥
( ‘সভ্যজগত’ বলতে, -‘যেখানে’ বা ‘যখন’
   সাধারণ জনগণ, --সচেতন মালিকপক্ষ ;
   -যথারীতি মালিকপক্ষের ভালো-মন্দ,
   ‘কল্যাণ-অকল্যাণ’-এর জন্য দায়ী জনগণ ।
    --নির্বাচিত ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধিপক্ষ কখনোই দায়ী নন। )

 -১২/০৪/২০০২ খ্রি:


বৈধভাষণ : এক
সাধারণ জনসমাবেশে
মালিকের প্রতি প্রতিনিধির সৎসাহসী স্বীকারোক্তি  :

-শ্রদ্ধেয় জনগণ,--
-আপনারা প্রশংসিত মালিকের চিরস্থায়ী প্রতিনিধি।
আর, আমি হচ্ছি, -আপনাদের ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধি,
          অর্থাৎ, -মালিকের প্রতিনিধির প্রতিনিধি।
দয়া ক’রে ‘জনপ্রতিনিধি’-কে ‘জননেতা’ ব’লে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে ‘দলনেতা’-কে ‘জননেতা’ ভেবে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে, -কখনো প্রতিনিধিকে ‘মালিক’ মনে করবেন না ॥
মালিকপক্ষের আপনারা সুযোগ না-দিলে
 কোনো প্রতিনিধি কখনো, নিজের খেয়ালখুশি মতো
                               কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
জনগণের সরকারি সম্পত্তি, সম্মান, ইজ্জত, স্মারক, ফলক,
 সরকারের গৌরব, ভৌগোলিক সম্পদ, দখল করতে পারি না ;
  -নিজের স্বার্থে অথবা নিজ-দলীয় স্বার্থে, --কখনোই
      দখল কিংবা গ্রাস করতে পারি না, -সুযোগ না-পেলে ;
   -যেকোনো অবৈধ কর্ম অসম্ভব,-আপনারা সুযোগ না-দিলে ॥
জনপ্রতিনিধির মালিক বা অভিভাবক আপনারা,-জনগণ ;
 --সরকার জনগণই যদি নীরব থাকেন!
  অথবা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত থাকেন, তো -!
   -সরকারের প্রতিনিধি এ-ই আমি, সুযোগ পাবোই পাবো ;
অভিভাবকদের আত্মকোন্দলময় নীরবতায় 
  নির্দোষ আমি অনিয়ন্ত্রিত স্বভাবদোষে
   বেখেয়ালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ নেবো,--   
  যেমন সিংহদের ঝগড়ার সুযোগে
     তাদের শ্রমার্জিত শিকার চ’লে যায় শেয়ালের দখলে।

যারা নিজ নিজ দায়িত্বে-কর্তব্যে-কর্মে  সচেতন,
  সভ্য জগতে তারাই মালিকপক্ষ সভ্য জনগণ- ; -
   সভ্য জগতে জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক থাকতে বাধ্য হন ;
গণমালিকেরা দেন না কোনো অবৈধ আচরণের সুযোগ বা সমর্থন।
   -যেখানে যেমন জনগণ,-সেখানে প্রতিনিধিরো তেমনি আচরণ ॥ 

রঙ্গপুর -   ১২/০৪/২০০২ খ্রি:


দ্বান্দ্বিকতা
‘সুযোগের অপব্যবহার’কে অপরাধ হিসেবে
  গণনায় না-নিলে, -বস্তুত, -প্রতিনিধিরা নির্দোষ।
যে-জাতি তার প্রতিনিধিদের যথাযথ যত্ন নেয় না,
 খোঁজখবর-তদারকি-নজরদারি করে না,
  সে-ই জাতির অর্থাৎ জাতসরকারের জনপ্রতিনিধিরা
      পরিষদে থাকাকালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ পায়
        এবং পরিষদের বাইরে থাকাকালে
    সুযোগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে
    বিরোধিতার জন্যেই বিরোধিতা করে।

রঙ্গপুর -    ৩০/১১/২০০৩  খ্রি:

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০০৯

মালিকানা

অরণ্য দর্শন

-‘নিজ-অংশে অতৃপ্ত -! দেখি সবটাই চায় অংশীদারেরা !
-এই ভূখণ্ডের বর্তমান মালিক এখন, --কে বা কারা ?’-
                             --জানতে চাইল শখের পর্যটক।
কুস্তিতে মত্ত স্বাগতিকেরা জবাব দিচ্ছে,
    -‘যারা অতীতে ছিলো, -এবং,-
      ভবিষ্যতেও থাকবে সসম্মানে,
        -তারাই বর্তমান মালিক বৈধবিধানে।’
--‘বিধান জানি,’-বললো মুসাফির,
   -‘তবু,-সংক্ষেপে জানতে চাই মালিকের পরিচয়।’
স্বাগতিকেরা বলে,
   -“-সম্মানিত মালিকেরা ভিন্ দেশী কেউ নন;
         সর্বকালে তারা এই ভূখণ্ডের ‘জনগণ’,-
           আর এই জনপদে,-
            ‘জনগণ’এর সন্তান, -আমরা, --‘জনসাধারণ’।”-
পর্যটক নিশ্চিত হ’লো, -সর্বাঙ্গে ধুলোমাখা,
        কুস্তিরত স্বাগতিকেরাই খাঁটি সন্তান;
          -জগতের যেকোনো জনগোষ্ঠীর  চে’ এরা বুদ্ধিমান।
‘-তবে, -এবারে একটা সাধারণ জিজ্ঞাসা, -যদি,-
       -যদি জ্ঞানীদের তালিকাভুক্ত হ’তে চান,’-
          -বললো শখের পর্যটক,“যখন জনগণ ঘুমন্ত,
                    যেখানে,-জনগণের বৈধ-সন্তানেরা
                         ‘নিজেদের মধ্যে কোন্দলে মত্ত,’
                              -বলুন তো,-সেই অবস্থায়,-
          তাদের ‘ভূখণ্ড সাজানোর দায়িত্ব’ যারা পায়;
               -স্বভাবে কেমন তারা ?-কর্মে আচরণে ?
           -কোন্ জাতের পোশাকে-ঢাকা-সঙ্ বিধানে ?”

পাঠাগার নীরবতায় স্বাগতিকেরা ভাবে,
  -‘জবাব দিতে গেলে, -মহাকাব্য হ’য়ে যাবে !’
যে-যার ভাবনায় ব্যস্ত কুস্তি-বাহিনী,-
-পর্যটক শুনিয়ে যায় অরণ্য কাহিনী,--
  “-‘প্রসবোত্তর-বেদনাক্লান্ত’ জননীদশা দর্শনে,
    সদ্যোজাত প্রভূ-শাবকের চিঁ চিঁ ডাক শ্রবণে,-
    কপট বায়স প্রসারিত পেখমে নৃত্যে উন্মত্ত;
    সমকালে,-নৃ-ধামের অদূরে অরণ্য প্রকম্পিত,
     -ক্ষণে ক্ষণে সেয়ানা মার্জারের অর্থহীন গর্জন,
              সারমেয় দখলে নেয়,--গজপৃষ্ঠাসন।
     -প্রভূ-শাবকেরা আত্মপরিচয় নিয়ে দাঁড়ালে,
       উলঙ্গ পোষ্য জীবকূল স’রে যায় আড়ালে।”


রঙ্গপুর - ২২/০১/২০০৩

নির্ঘণ্ট : ---
কপট বায়স  প্রতারক কাক ; পেখম  ময়ূরের পুচ্ছের পালক;
নৃ  মানুষ ; নৃ-ধাম  লোকালয় ;
সেয়ানা মার্জার  সেয়ানা বিড়াল/ভেজা বেড়াল ;
গর্জন  সিংহের ডাক ; সারমেয়  কুকুর ; গজ  হাতি;
গজপৃষ্ঠাসন  নৃপতি/নৃ-প্রতিনিধির আসন ; পোষ্য  পালিত।