শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০০৯

সন্তানের প্রলাপ

সন্তানের প্রলাপ

এদেশ যদি কারো বাবার অথবা কারো স্বামীর
    চিরস্থায়ী সম্পত্তি হয়,
      -তবে মা ! -আমরা কারা ?
-তবে কি আমার বাবা এদেশের নয় ?
  -তবে কি তোমার স্বামীর দেশ এটা নয় !
    -ভিনদেশি আমরা তবে !--
-আজও এখানে আছি কোন্ লজ্জায় ?
তোমাকে অতিথি হিসেবে সম্মান দিতেও
                       এরা জানে না মা।
চলো মা, -যথেষ্ট থেকেছি, -আর না,
    -দখল নিয়ে ওদের কাড়াকাড়ি
 নিত্য কাদা-ছোড়াছুড়ি দেখার চে’
   চলো আমরাই স’রে যাই ;
      ভিনদেশি দর্শকের ভিড় কমুক,
    -শান্তিতে ওরাই থাকুক বেঁচে।
ওঠো মা, চলো, এখনো সহযাত্রী পাবে।
 তুমি আমার বাবার খোঁজে যাবে,
  -সঙ্গে আমরা যাবো তোমার স্বামীর দেশে,
      -এখানে আর থাকতে চাইনে মা।
স্মরণকাল থেকে এখানেই খেয়ে-পরে আছি,
       --যাবার কালে অকৃতজ্ঞ হবো না মা ;
-ওদের জন্য শুভকামনা রেখে যাবো ;
-ওদের বিগত-বর্তমান স্বামী আর প্রয়াত পিতার জন্য
   কামনায় প্রার্থনায় শান্তি চেয়ে নেবো,
    --তবু চলো মা, -গণবহরের সাথে চলো,
     -মিথ্যে আশায় কাঙালের মতো লটকে থেকো না।
ওরা তোমার সম্মান দেয়নি, দিচ্ছে না, দেবে না,
 -নিজের ‘মৃত-ভাইয়ের-মাংস-ভক্ষণ’-এর চেয়েও
     বীভৎস কীর্তি দেখে দেখে ঘেন্না ধরেছে মা,
         -যথেষ্ট দেখেছি, তারও বেশি থেকেছি,
           -চলো মা, -এভাবে আর থাকা যায় না।

রঙ্গপুর -   ২২/১১/২০০৩ খ্রি:   


অভিধান দর্শন

‘শোনো পিতা, তোমাকে হত্যা ক’রে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- মু-- ... ’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো পতি, তোমাকে প্রাণে মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- জি-- ...’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো চাচা, তোমাকে ধাক্কা মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- হো-- ...’শাদ মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো দাদু, তোমাকে ধ’রে বেঁধে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- গো-- ...’জম মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো ভাই, তোমাকে না-দিয়ে ঠাঁই ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- রা-- ... ’নন মানেই বাংলাদেশ ॥’

‘শোনো বাবা, তোমার তরিকা না-মেনে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, - ফতোয়াবাজ মানেই বাংলাদেশ ॥’.. ..

মুসাফির বুঝলো, --কলাগাছ মানে এখানে ঐরাবত বাহিনী ;
তবে, সকল অভিধান সমন্বিত রচিত বিধান
খুঁজে খুঁজে পেলো মুসাফির, --অজ্ঞরাই আঘাতকর্মী,
মানবসন্তানকে আঘাতকারীরা নিঃসন্দেহে মানুষের বিপরীতধর্মী।
--মুসাফির আরও খুঁজে পেলো, -ক্ষৌণীশ মানে মানবসন্তান।
.. ... ....অমনি!  আবারো শোনালো সেই অরণ্য কাহিনী --
  --(“-‘প্রসবোত্তর-বেদনাক্লান্ত’ জননীদশা  দর্শনে,
        সদ্যোজাত প্রভূ-শাবকের চিঁ চিঁ ডাক শ্রবণে, -
        কপট বায়স প্রসারিত পেখমে নৃত্যে উন্মত্ত ;
        সমকালে, -নৃ-ধামের অদূরে অরণ্য প্রকম্পিত,
        -ক্ষণে ক্ষণে সেয়ানা মার্জারের অর্থহীন গর্জন,
                সারমেয় দখলে নেয়, --গজপৃষ্ঠাসন।
          -প্রভূ-শাবকেরা আত্মপরিচয় নিয়ে দাঁড়ালে,
        উলঙ্গ পোষ্য জীবকূল স’রে যায় আড়ালে।”)--

ঘাম-ঝরা কর্মক্লান্ত নীরব জনগণ মন দিয়ে শোনে
 আর নিজেদের জাগরণের অপেক্ষায় দিন গোণে।
কখনো বা লজ্জায় তারা আপন মনে গায়,-
         ‘মানছি এটা তোমার বাবার দেশ।
          মানছি এটা তোমার স্বামীর দেশ।
           ভিনদেশি আমরা তাহলে এসে,
            -জন্মেছি ! -মায়ের ভাইয়ের দেশে !
              --তাই যদি হয়, -সরল সমাধানে
          আমরা তবে সম্মানিত অতিথি  এখানে
           মামা আর মামাতো বোনের দেশে
            অতিথিরা যথারীতি মর্যাদা পেতে চায় ;
              অতিথিরা তোমাকে ব্যস্ত দেখতে চায় ;
            -নিত্য আনন্দিত ব্যস্ত অতিথি সেবায়।’

(রঙ্গপুর  --২৮/০৮/২০০৪)


   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন