সন্তানের প্রলাপ
এদেশ যদি কারো বাবার অথবা কারো স্বামীর
চিরস্থায়ী সম্পত্তি হয়,
-তবে মা ! -আমরা কারা ?
-তবে কি আমার বাবা এদেশের নয় ?
-তবে কি তোমার স্বামীর দেশ এটা নয় !
-ভিনদেশি আমরা তবে !--
-আজও এখানে আছি কোন্ লজ্জায় ?
তোমাকে অতিথি হিসেবে সম্মান দিতেও
এরা জানে না মা।
চলো মা, -যথেষ্ট থেকেছি, -আর না,
-দখল নিয়ে ওদের কাড়াকাড়ি
নিত্য কাদা-ছোড়াছুড়ি দেখার চে’
চলো আমরাই স’রে যাই ;
ভিনদেশি দর্শকের ভিড় কমুক,
-শান্তিতে ওরাই থাকুক বেঁচে।
ওঠো মা, চলো, এখনো সহযাত্রী পাবে।
তুমি আমার বাবার খোঁজে যাবে,
-সঙ্গে আমরা যাবো তোমার স্বামীর দেশে,
-এখানে আর থাকতে চাইনে মা।
স্মরণকাল থেকে এখানেই খেয়ে-পরে আছি,
--যাবার কালে অকৃতজ্ঞ হবো না মা ;
-ওদের জন্য শুভকামনা রেখে যাবো ;
-ওদের বিগত-বর্তমান স্বামী আর প্রয়াত পিতার জন্য
কামনায় প্রার্থনায় শান্তি চেয়ে নেবো,
--তবু চলো মা, -গণবহরের সাথে চলো,
-মিথ্যে আশায় কাঙালের মতো লটকে থেকো না।
ওরা তোমার সম্মান দেয়নি, দিচ্ছে না, দেবে না,
-নিজের ‘মৃত-ভাইয়ের-মাংস-ভক্ষণ’-এর চেয়েও
বীভৎস কীর্তি দেখে দেখে ঘেন্না ধরেছে মা,
-যথেষ্ট দেখেছি, তারও বেশি থেকেছি,
-চলো মা, -এভাবে আর থাকা যায় না।
রঙ্গপুর - ২২/১১/২০০৩ খ্রি:
অভিধান দর্শন
‘শোনো পিতা, তোমাকে হত্যা ক’রে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- মু-- ... ’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো পতি, তোমাকে প্রাণে মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- জি-- ...’মান মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো চাচা, তোমাকে ধাক্কা মেরে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- হো-- ...’শাদ মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো দাদু, তোমাকে ধ’রে বেঁধে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- গো-- ...’জম মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো ভাই, তোমাকে না-দিয়ে ঠাঁই ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, -- রা-- ... ’নন মানেই বাংলাদেশ ॥’
‘শোনো বাবা, তোমার তরিকা না-মেনে ওরা ভেবেছে সব শেষ ;
কিন্তু ওরা জানে না যে, - ফতোয়াবাজ মানেই বাংলাদেশ ॥’.. ..
মুসাফির বুঝলো, --কলাগাছ মানে এখানে ঐরাবত বাহিনী ;
তবে, সকল অভিধান সমন্বিত রচিত বিধান
খুঁজে খুঁজে পেলো মুসাফির, --অজ্ঞরাই আঘাতকর্মী,
মানবসন্তানকে আঘাতকারীরা নিঃসন্দেহে মানুষের বিপরীতধর্মী।
--মুসাফির আরও খুঁজে পেলো, -ক্ষৌণীশ মানে মানবসন্তান।
.. ... ....অমনি! আবারো শোনালো সেই অরণ্য কাহিনী --
--(“-‘প্রসবোত্তর-বেদনাক্লান্ত’ জননীদশা দর্শনে,
সদ্যোজাত প্রভূ-শাবকের চিঁ চিঁ ডাক শ্রবণে, -
কপট বায়স প্রসারিত পেখমে নৃত্যে উন্মত্ত ;
সমকালে, -নৃ-ধামের অদূরে অরণ্য প্রকম্পিত,
-ক্ষণে ক্ষণে সেয়ানা মার্জারের অর্থহীন গর্জন,
সারমেয় দখলে নেয়, --গজপৃষ্ঠাসন।
-প্রভূ-শাবকেরা আত্মপরিচয় নিয়ে দাঁড়ালে,
উলঙ্গ পোষ্য জীবকূল স’রে যায় আড়ালে।”)--
ঘাম-ঝরা কর্মক্লান্ত নীরব জনগণ মন দিয়ে শোনে
আর নিজেদের জাগরণের অপেক্ষায় দিন গোণে।
কখনো বা লজ্জায় তারা আপন মনে গায়,-
‘মানছি এটা তোমার বাবার দেশ।
মানছি এটা তোমার স্বামীর দেশ।
ভিনদেশি আমরা তাহলে এসে,
-জন্মেছি ! -মায়ের ভাইয়ের দেশে !
--তাই যদি হয়, -সরল সমাধানে
আমরা তবে সম্মানিত অতিথি এখানে
মামা আর মামাতো বোনের দেশে
অতিথিরা যথারীতি মর্যাদা পেতে চায় ;
অতিথিরা তোমাকে ব্যস্ত দেখতে চায় ;
-নিত্য আনন্দিত ব্যস্ত অতিথি সেবায়।’
(রঙ্গপুর --২৮/০৮/২০০৪)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন