বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০০৯

বৈধভাষণ

মালিকানা সমাচার   
 

মালিকদের আত্মসম্মানবোধ
  এবং নিরপেক্ষ অভিভাবকত্ব
    প্রদর্শনের ক্ষমতা না-থাকলে
      প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ থাকে না
      এবং প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকে না ॥
প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিলে
  মালিকের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব বেদখল হবে
          এবং, -বেদখল না-হওয়াটাই অবাস্তব ॥
মালিকদের অজ্ঞতা অথবা অন্ধ-পক্ষপাতিত্ব
      প্রতিনিধিদের সচ্চরিত্রকে নষ্ট করে ; -যেভাবে,
      -জ্ঞানীরাই জ্ঞানপাপী হয় জগৎ-সংসারে ॥
জ্ঞানপাপীরা সর্বকালে আত্মাহুতিপ্রবণ ॥
মালিকের অজ্ঞতা জ্ঞানপাপীদের কাম্য ॥
মালিকদের অজ্ঞতায় দুর্বৃত্তেরা
যে-হারে ‘অবৈধ প্রতিপত্তি’ লাভের সুযোগ পায়,
         --তারও চে’ বেশি হারে
                         বৃদ্ধি পায় আত্মঘাতি লোভ ॥


অজ্ঞ মালিকদের যত কর্মীবাহিনী,
           -বেতনভোগী চাকর,
  -যেমন, -আমলা, কামলা, কর্মচারী,
   --পদবীগুলোর অর্থের সুবিধামতো বিকৃতিকারীরা
       ‘কর্মী’ পদবীটা ঢেকে রেখে রেখে কৌশলে
          কর্তা, প্রশাসক ইত্যাদি পোশাকি পদবীর জোরে
             সুযোগ পেলেই দাবি করে মালিকানা ;-
তেমনি, -উৎপাদক, ফড়িয়া, দালাল, জাগতিক ব্যবসায়ী,
 ঠিকাদার, বুদ্ধিজীবী, যুক্তিজীবী, বিধান-ব্যবসায়ী,
 -সকলেই, -সমান সুযোগে আহ্লাদে আটখানা ;
    --যেখানে আসল মালিকেরা অজ্ঞ অচেতন,
          --অস্থায়ী মালিক সাজে দখলদার নকলেরা ॥

আত্মপরিচয় না-জানলে আসল মালিকেরা
 যোগ্য অভিভাবক হ’তেই পারে না,
 -নকলদের কোন্দল থামাতে পারে না তারা,-
সমকালে দেখা যায়,--
 -যেকোনো ভাবে কখনো দখলে নিতে পারলেই
   নকলেরা সহজে অস্থায়ী দখল ছাড়তে চায় না ॥
অথচ, -যদিও সকলে জানে,
     সংবিধান, --সাধারণের স্বার্থরক্ষী হ’লে
     অবৈধ দখল বেশিক্ষণ ধ’রে রাখা যায় না ॥

যথারীতি, -জ্ঞানপাপী দখলদার নকল মালিকেরা,
 --কেউ কাউকে মালিক মেনে নেয় না ;
  -সহ্য করে না কেউ কারো খবরদারি।
--তবুও,-নকলদের চেষ্টা সমান তালেই চলে,
 -যাতে আসলদের অজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী থাকে ;
  -যেন মালিকদের জ্ঞানান্ধকারের সুযোগে
                           মেতে থাকা যায়
                  সুবিধাভোগের নিত্য কোন্দলে ॥
অজ্ঞ মালিকদের জন্য জ্ঞানান্ধকারে থাকা
  কোনো যন্ত্রণার বিষয় নয়,
  বরং,--জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী উভয়ের ক্ষেত্রেই
      জ্ঞানান্ধকারের পাশে থাকা মহাঝুঁকিময়।
অজ্ঞ মালিকদের হিংস্রতা
  হিংস্রতম জ্ঞানপাপীদের চেয়েও হিংস্রতর ॥
মালিকের অজ্ঞতা ভীষণ ভয়ঙ্কর ;
 -হারানো মালিকানা ফিরে পাবার জন্য
    সময়ে সময়ে হঠাৎ যখন জাগে তারা,
   -পূর্বাভাস না-দিয়েই জাগে অজ্ঞ-জনগণ !
    -দয়া-মায়া-করুণা ভুলে যায়,
     --ভুলে যায় তারা কেবা তাদের পর
   আর কে-ইবা তাদের আপনজন !!-
  --অথচ ! -ঐ মালিকেরাই,--যেখানে,
   জ্ঞানপ্রাপ্ত সাধারণ জনগণ,-
    -নিজেদের অধিকার জ্ঞানে জ্ঞানী-সচেতন,-
     --সভ্য-ভদ্র-মার্জিত তারা,-এবং তারাই
            সমন্বিতরূপে গঠনমুখী অভিভাবক ;
       --ঐ মালিকেরাই নিরপেক্ষ বিচারক ॥

-(১৭/০১/২০০৪ খ্রি:)


গণ-ভূখণ্ড সরকার

সকল মালিকানা সর্বময়  মালিকের।
 তবে,-কোনো ভূখণ্ডের জাগতিক মালিকানা
   ঐ ভূ-খণ্ডের সরকারের, অর্থাৎ,-নির্বিশেষ  সাধারণের,
  অর্থাৎ জনসাধারণের ;-ঐ ভূখণ্ডের জনগণের ॥
নির্বিশেষ-দলীয় জনগণ  অর্থাৎ সরকার  তার ভূখণ্ডকে
  মানুষের বাসোপযোগী ক’রে সাজানোর জন্য
মানুষের মধ্য থেকেই প্রতিনিধি  মনোনীত করে ॥
সরকার সর্বোচ্চ  জাগতিক ক্ষমতার ধারক,-অর্থাৎ,
            -জনগণ সর্বোচ্চ  জাগতিক ক্ষমতার ধারক।
-তাই জগতের কারো কাছে কখনোই
  সরকারকে,-অর্থাৎ জনগণকে
   জবাবদিহি করতে হয় না ;
--কিন্তু,-গণমালিকের কাছে অর্থাৎ জনগণের কাছে
  জনপ্রতিনিধিরা অর্থাৎ সরকারের প্রতিনিধিরা 
                           জবাবদিহি ক’রে যেতে বাধ্য।
এবং,-জবাবদিহি না-করলে সেই প্রতিনিধি
  স্বেচ্ছাচারিতার অপরাধের অপরাধীরূপে চিহ্নিত হয় ॥

জনগণের ক্ষতি করতে চেয়ে, -কোনো জনপ্রতিনিধি,
       -স্মরণকাল থেকে আজ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।
  -স্বেচ্ছাচারী প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারকে যদিওবা
            কিছুকালের জন্য সরকার  সহ্য করে,
          --অনন্তকাল-ব্যাপী সহ্য করে না ;
--অতীতেও সহ্য করেনি, -ভবিষ্যতেও করবে না।
(দূরে-কাছে-সামনে-পিছনে-ডানে-বাঁয়ে এবং উপরে-নিচে   
                     বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত নিদর্শনগুলো দর্শনীয় 
)
কোনো ভূখণ্ডের সরকার   অর্থাৎ  জনসাধারণ
 আত্মভোলা হ’য়ে অথবা নিজেদের পরিচয় না-জেনে
  তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদেরকেই ‘সরকার’ বললে
   অথবা সরকার মনে করলে, -লোভনীয় সুযোগটা
    খুব কমসংখ্যক জনপ্রতিনিধি ছেড়ে দেবে ;
   -এবং, --ঐ সুযোগে
       সরকারের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ
        জেনে অথবা না-জেনে সরকার  সেজে
         সর্বোচ্চ জাগতিক ক্ষমতার  ধারকরূপে
          স্বেচ্ছাচারি-কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হ’লে,
      -একটা সুনির্দিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত,
       --তাদেরকে ক্ষমা করা যায় ;
    --কিন্তু, -অজ্ঞ জনসাধারণত্ব  অথবা
           গণসরকারের অজ্ঞতা  ক্ষমা পেতে পারে না।   

   -আমি আমার বিচার দাবি করি সর্বমান্য বিচারক,
   আমি চাই সম্পদের উৎসে উপচানো  এই ভূ-খণ্ড
   প্রগতিশীল জ্ঞানী মানুষের বসবাসের যোগ্য হোক।
   আমি চাই এখানে আসুক গোটা বিশ্বের পথিক-পর্যটক ॥
 

আমার মতো অজ্ঞ জনসাধারণের শাস্তি দাবি করি ;
--চাই জ্ঞানীদের চাবুকের আঘাত কিম্বা ফাঁসির দড়ি ॥
**--***---*********---------

( -ছন্দ মেলেনি মানি
   -দয়া ক’রে গর্বিত-পণ্ডিতেরা থামাবেন কানাকানি
    অজ্ঞ আমি বুলি আওড়াই   
    ছন্দের মিল-অমিলের কী-ই বা জানি
    কোনো কাব্যবিশারদ কোনো পাঠচক্রে ব’সে
    স্বজনদের কাছে পাঠানো বিলিপত্রখানাকে যেন
    কাব্যমানসূচকনির্ধারক কষ্টিতে ফেলে না-ঘষে।
)

রঙ্গপুর     -  ০৪/০১/২০০৪ খ্রি: 



বৈধভাষণ : দুই
ভিক্ষাবৃত্তিহীন স্বনির্ভর কর্মজীবী লোকালয়ে
 মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির প্রতি
--
 

“প্রমাণিত হয়েছে এবং আমরা মেনেও নিয়েছি
        আপনি সার্বিক মানবকল্যাণ চান ; -
   -আমরা যথারীতি যথাস্থানে পাঠাচ্ছি আপনাকে।
এরপর, -করণীয় কর্ম কী হবে আপনার?
 -অতিব্যস্ত হ’য়ে নিজের পছন্দমত সুন্দর কিছু
    জোর ক’রে অন্যদের ওপর চাপাতে চাইবেন নাকি !?
অথচ, -যখন, -প্রতিনিধি, আপনি জানেন না,
 -নিঃসন্দেহে আপনি জানেন না যে
   কিসে আমাদের সার্বিক কল্যাণ !!
সকলের কিম্বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণের  কল্যাণ কোথায়,
 -তা’ জনে জনে জিগ্যেস ক’রে ক’রে জেনে নেবার
   সুযোগ বা সময়, -যদি না-থাকে নাগালে !
  -আপনার নাগালে, -সম্মানিত প্রতিনিধি !!
তাহলে কি এটাই যথেষ্ট নয়, -আত্মরক্ষার জন্য
  শুধু এতটুকু লক্ষ্য রেখে যাবেন,
  এবং আমরাও দেখবো,
  -গণমালিকের কল্যাণ হোক্ বা না-হোক,
   --অন্তত, আপনার সজ্ঞান কর্মকাণ্ডে
     কখনোই যেন কারো অকল্যাণ না-হয় !? -...

দেখা যায়, -এভাবেই, -জনগণের উচ্চারণ
‘সভ্য-জগতে’ জনপ্রতিনিধিকে
  নিয়ন্ত্রিত-সুরক্ষিত রাখে,
 অথবা, -সতর্কীকরণের ভঙ্গিতে  শাসন করে।
অর্থাৎ, জনগণ জাগ্রত হ’লে
     রক্ষক জনপ্রতিনিধি ভক্ষক হ’তে পারে না ॥
( ‘সভ্যজগত’ বলতে, -‘যেখানে’ বা ‘যখন’
   সাধারণ জনগণ, --সচেতন মালিকপক্ষ ;
   -যথারীতি মালিকপক্ষের ভালো-মন্দ,
   ‘কল্যাণ-অকল্যাণ’-এর জন্য দায়ী জনগণ ।
    --নির্বাচিত ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধিপক্ষ কখনোই দায়ী নন। )

 -১২/০৪/২০০২ খ্রি:


বৈধভাষণ : এক
সাধারণ জনসমাবেশে
মালিকের প্রতি প্রতিনিধির সৎসাহসী স্বীকারোক্তি  :

-শ্রদ্ধেয় জনগণ,--
-আপনারা প্রশংসিত মালিকের চিরস্থায়ী প্রতিনিধি।
আর, আমি হচ্ছি, -আপনাদের ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধি,
          অর্থাৎ, -মালিকের প্রতিনিধির প্রতিনিধি।
দয়া ক’রে ‘জনপ্রতিনিধি’-কে ‘জননেতা’ ব’লে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে ‘দলনেতা’-কে ‘জননেতা’ ভেবে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে, -কখনো প্রতিনিধিকে ‘মালিক’ মনে করবেন না ॥
মালিকপক্ষের আপনারা সুযোগ না-দিলে
 কোনো প্রতিনিধি কখনো, নিজের খেয়ালখুশি মতো
                               কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
জনগণের সরকারি সম্পত্তি, সম্মান, ইজ্জত, স্মারক, ফলক,
 সরকারের গৌরব, ভৌগোলিক সম্পদ, দখল করতে পারি না ;
  -নিজের স্বার্থে অথবা নিজ-দলীয় স্বার্থে, --কখনোই
      দখল কিংবা গ্রাস করতে পারি না, -সুযোগ না-পেলে ;
   -যেকোনো অবৈধ কর্ম অসম্ভব,-আপনারা সুযোগ না-দিলে ॥
জনপ্রতিনিধির মালিক বা অভিভাবক আপনারা,-জনগণ ;
 --সরকার জনগণই যদি নীরব থাকেন!
  অথবা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত থাকেন, তো -!
   -সরকারের প্রতিনিধি এ-ই আমি, সুযোগ পাবোই পাবো ;
অভিভাবকদের আত্মকোন্দলময় নীরবতায় 
  নির্দোষ আমি অনিয়ন্ত্রিত স্বভাবদোষে
   বেখেয়ালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ নেবো,--   
  যেমন সিংহদের ঝগড়ার সুযোগে
     তাদের শ্রমার্জিত শিকার চ’লে যায় শেয়ালের দখলে।

যারা নিজ নিজ দায়িত্বে-কর্তব্যে-কর্মে  সচেতন,
  সভ্য জগতে তারাই মালিকপক্ষ সভ্য জনগণ- ; -
   সভ্য জগতে জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক থাকতে বাধ্য হন ;
গণমালিকেরা দেন না কোনো অবৈধ আচরণের সুযোগ বা সমর্থন।
   -যেখানে যেমন জনগণ,-সেখানে প্রতিনিধিরো তেমনি আচরণ ॥ 

রঙ্গপুর -   ১২/০৪/২০০২ খ্রি:


দ্বান্দ্বিকতা
‘সুযোগের অপব্যবহার’কে অপরাধ হিসেবে
  গণনায় না-নিলে, -বস্তুত, -প্রতিনিধিরা নির্দোষ।
যে-জাতি তার প্রতিনিধিদের যথাযথ যত্ন নেয় না,
 খোঁজখবর-তদারকি-নজরদারি করে না,
  সে-ই জাতির অর্থাৎ জাতসরকারের জনপ্রতিনিধিরা
      পরিষদে থাকাকালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ পায়
        এবং পরিষদের বাইরে থাকাকালে
    সুযোগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে
    বিরোধিতার জন্যেই বিরোধিতা করে।

রঙ্গপুর -    ৩০/১১/২০০৩  খ্রি:

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন