মালিকানা সমাচার
মালিকদের আত্মসম্মানবোধ
এবং নিরপেক্ষ অভিভাবকত্ব
প্রদর্শনের ক্ষমতা না-থাকলে
প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ থাকে না
এবং প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকে না ॥
প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিলে
মালিকের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব বেদখল হবে
এবং, -বেদখল না-হওয়াটাই অবাস্তব ॥
মালিকদের অজ্ঞতা অথবা অন্ধ-পক্ষপাতিত্ব
প্রতিনিধিদের সচ্চরিত্রকে নষ্ট করে ; -যেভাবে,
-জ্ঞানীরাই জ্ঞানপাপী হয় জগৎ-সংসারে ॥
জ্ঞানপাপীরা সর্বকালে আত্মাহুতিপ্রবণ ॥
মালিকের অজ্ঞতা জ্ঞানপাপীদের কাম্য ॥
মালিকদের অজ্ঞতায় দুর্বৃত্তেরা
যে-হারে ‘অবৈধ প্রতিপত্তি’ লাভের সুযোগ পায়,
--তারও চে’ বেশি হারে
বৃদ্ধি পায় আত্মঘাতি লোভ ॥
অজ্ঞ মালিকদের যত কর্মীবাহিনী,
-বেতনভোগী চাকর,
-যেমন, -আমলা, কামলা, কর্মচারী,
--পদবীগুলোর অর্থের সুবিধামতো বিকৃতিকারীরা
‘কর্মী’ পদবীটা ঢেকে রেখে রেখে কৌশলে
কর্তা, প্রশাসক ইত্যাদি পোশাকি পদবীর জোরে
সুযোগ পেলেই দাবি করে মালিকানা ;-
তেমনি, -উৎপাদক, ফড়িয়া, দালাল, জাগতিক ব্যবসায়ী,
ঠিকাদার, বুদ্ধিজীবী, যুক্তিজীবী, বিধান-ব্যবসায়ী,
-সকলেই, -সমান সুযোগে আহ্লাদে আটখানা ;
--যেখানে আসল মালিকেরা অজ্ঞ অচেতন,
--অস্থায়ী মালিক সাজে দখলদার নকলেরা ॥
আত্মপরিচয় না-জানলে আসল মালিকেরা
যোগ্য অভিভাবক হ’তেই পারে না,
-নকলদের কোন্দল থামাতে পারে না তারা,-
সমকালে দেখা যায়,--
-যেকোনো ভাবে কখনো দখলে নিতে পারলেই
নকলেরা সহজে অস্থায়ী দখল ছাড়তে চায় না ॥
অথচ, -যদিও সকলে জানে,
সংবিধান, --সাধারণের স্বার্থরক্ষী হ’লে
অবৈধ দখল বেশিক্ষণ ধ’রে রাখা যায় না ॥
যথারীতি, -জ্ঞানপাপী দখলদার নকল মালিকেরা,
--কেউ কাউকে মালিক মেনে নেয় না ;
-সহ্য করে না কেউ কারো খবরদারি।
--তবুও,-নকলদের চেষ্টা সমান তালেই চলে,
-যাতে আসলদের অজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী থাকে ;
-যেন মালিকদের জ্ঞানান্ধকারের সুযোগে
মেতে থাকা যায়
সুবিধাভোগের নিত্য কোন্দলে ॥
অজ্ঞ মালিকদের জন্য জ্ঞানান্ধকারে থাকা
কোনো যন্ত্রণার বিষয় নয়,
বরং,--জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী উভয়ের ক্ষেত্রেই
জ্ঞানান্ধকারের পাশে থাকা মহাঝুঁকিময়।
অজ্ঞ মালিকদের হিংস্রতা
হিংস্রতম জ্ঞানপাপীদের চেয়েও হিংস্রতর ॥
মালিকের অজ্ঞতা ভীষণ ভয়ঙ্কর ;
-হারানো মালিকানা ফিরে পাবার জন্য
সময়ে সময়ে হঠাৎ যখন জাগে তারা,
-পূর্বাভাস না-দিয়েই জাগে অজ্ঞ-জনগণ !
-দয়া-মায়া-করুণা ভুলে যায়,
--ভুলে যায় তারা কেবা তাদের পর
আর কে-ইবা তাদের আপনজন !!-
--অথচ ! -ঐ মালিকেরাই,--যেখানে,
জ্ঞানপ্রাপ্ত সাধারণ জনগণ,-
-নিজেদের অধিকার জ্ঞানে জ্ঞানী-সচেতন,-
--সভ্য-ভদ্র-মার্জিত তারা,-এবং তারাই
সমন্বিতরূপে গঠনমুখী অভিভাবক ;
--ঐ মালিকেরাই নিরপেক্ষ বিচারক ॥
-(১৭/০১/২০০৪ খ্রি:)
গণ-ভূখণ্ড সরকার
সকল মালিকানা সর্বময় মালিকের।
তবে,-কোনো ভূখণ্ডের জাগতিক মালিকানা
ঐ ভূ-খণ্ডের সরকারের, অর্থাৎ,-নির্বিশেষ সাধারণের,
অর্থাৎ জনসাধারণের ;-ঐ ভূখণ্ডের জনগণের ॥
নির্বিশেষ-দলীয় জনগণ অর্থাৎ সরকার তার ভূখণ্ডকে
মানুষের বাসোপযোগী ক’রে সাজানোর জন্য
মানুষের মধ্য থেকেই প্রতিনিধি মনোনীত করে ॥
সরকার সর্বোচ্চ জাগতিক ক্ষমতার ধারক,-অর্থাৎ,
-জনগণ সর্বোচ্চ জাগতিক ক্ষমতার ধারক।
-তাই জগতের কারো কাছে কখনোই
সরকারকে,-অর্থাৎ জনগণকে
জবাবদিহি করতে হয় না ;
--কিন্তু,-গণমালিকের কাছে অর্থাৎ জনগণের কাছে
জনপ্রতিনিধিরা অর্থাৎ সরকারের প্রতিনিধিরা
জবাবদিহি ক’রে যেতে বাধ্য।
এবং,-জবাবদিহি না-করলে সেই প্রতিনিধি
স্বেচ্ছাচারিতার অপরাধের অপরাধীরূপে চিহ্নিত হয় ॥
জনগণের ক্ষতি করতে চেয়ে, -কোনো জনপ্রতিনিধি,
-স্মরণকাল থেকে আজ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।
-স্বেচ্ছাচারী প্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারকে যদিওবা
কিছুকালের জন্য সরকার সহ্য করে,
--অনন্তকাল-ব্যাপী সহ্য করে না ;
--অতীতেও সহ্য করেনি, -ভবিষ্যতেও করবে না।
(দূরে-কাছে-সামনে-পিছনে-ডানে-বাঁয়ে এবং উপরে-নিচে
বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত নিদর্শনগুলো দর্শনীয় )
কোনো ভূখণ্ডের সরকার অর্থাৎ জনসাধারণ
আত্মভোলা হ’য়ে অথবা নিজেদের পরিচয় না-জেনে
তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদেরকেই ‘সরকার’ বললে
অথবা সরকার মনে করলে, -লোভনীয় সুযোগটা
খুব কমসংখ্যক জনপ্রতিনিধি ছেড়ে দেবে ;
-এবং, --ঐ সুযোগে
সরকারের প্রতিনিধিদের কেউ কেউ
জেনে অথবা না-জেনে সরকার সেজে
সর্বোচ্চ জাগতিক ক্ষমতার ধারকরূপে
স্বেচ্ছাচারি-কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হ’লে,
-একটা সুনির্দিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত,
--তাদেরকে ক্ষমা করা যায় ;
--কিন্তু, -অজ্ঞ জনসাধারণত্ব অথবা
গণসরকারের অজ্ঞতা ক্ষমা পেতে পারে না।
-আমি আমার বিচার দাবি করি সর্বমান্য বিচারক,
আমি চাই সম্পদের উৎসে উপচানো এই ভূ-খণ্ড
প্রগতিশীল জ্ঞানী মানুষের বসবাসের যোগ্য হোক।
আমি চাই এখানে আসুক গোটা বিশ্বের পথিক-পর্যটক ॥
আমার মতো অজ্ঞ জনসাধারণের শাস্তি দাবি করি ;
--চাই জ্ঞানীদের চাবুকের আঘাত কিম্বা ফাঁসির দড়ি ॥
**--***---*********---------
( -ছন্দ মেলেনি মানি
-দয়া ক’রে গর্বিত-পণ্ডিতেরা থামাবেন কানাকানি
অজ্ঞ আমি বুলি আওড়াই
ছন্দের মিল-অমিলের কী-ই বা জানি
কোনো কাব্যবিশারদ কোনো পাঠচক্রে ব’সে
স্বজনদের কাছে পাঠানো বিলিপত্রখানাকে যেন
কাব্যমানসূচকনির্ধারক কষ্টিতে ফেলে না-ঘষে। )
রঙ্গপুর - ০৪/০১/২০০৪ খ্রি:
বৈধভাষণ : দুই
ভিক্ষাবৃত্তিহীন স্বনির্ভর কর্মজীবী লোকালয়ে
মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির প্রতি --
“প্রমাণিত হয়েছে এবং আমরা মেনেও নিয়েছি
আপনি সার্বিক মানবকল্যাণ চান ; -
-আমরা যথারীতি যথাস্থানে পাঠাচ্ছি আপনাকে।
এরপর, -করণীয় কর্ম কী হবে আপনার?
-অতিব্যস্ত হ’য়ে নিজের পছন্দমত সুন্দর কিছু
জোর ক’রে অন্যদের ওপর চাপাতে চাইবেন নাকি !?
অথচ, -যখন, -প্রতিনিধি, আপনি জানেন না,
-নিঃসন্দেহে আপনি জানেন না যে
কিসে আমাদের সার্বিক কল্যাণ !!
সকলের কিম্বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণের কল্যাণ কোথায়,
-তা’ জনে জনে জিগ্যেস ক’রে ক’রে জেনে নেবার
সুযোগ বা সময়, -যদি না-থাকে নাগালে !
-আপনার নাগালে, -সম্মানিত প্রতিনিধি !!
তাহলে কি এটাই যথেষ্ট নয়, -আত্মরক্ষার জন্য
শুধু এতটুকু লক্ষ্য রেখে যাবেন,
এবং আমরাও দেখবো,
-গণমালিকের কল্যাণ হোক্ বা না-হোক,
--অন্তত, আপনার সজ্ঞান কর্মকাণ্ডে
কখনোই যেন কারো অকল্যাণ না-হয় !? -...”
দেখা যায়, -এভাবেই, -জনগণের উচ্চারণ
‘সভ্য-জগতে’ জনপ্রতিনিধিকে
নিয়ন্ত্রিত-সুরক্ষিত রাখে,
অথবা, -সতর্কীকরণের ভঙ্গিতে শাসন করে।
অর্থাৎ, জনগণ জাগ্রত হ’লে
রক্ষক জনপ্রতিনিধি ভক্ষক হ’তে পারে না ॥
( ‘সভ্যজগত’ বলতে, -‘যেখানে’ বা ‘যখন’
সাধারণ জনগণ, --সচেতন মালিকপক্ষ ;
-যথারীতি মালিকপক্ষের ভালো-মন্দ,
‘কল্যাণ-অকল্যাণ’-এর জন্য দায়ী জনগণ ।
--নির্বাচিত ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধিপক্ষ কখনোই দায়ী নন। )
-১২/০৪/২০০২ খ্রি:
বৈধভাষণ : এক
সাধারণ জনসমাবেশে
মালিকের প্রতি প্রতিনিধির সৎসাহসী স্বীকারোক্তি :
-শ্রদ্ধেয় জনগণ,--
-আপনারা প্রশংসিত মালিকের চিরস্থায়ী প্রতিনিধি।
আর, আমি হচ্ছি, -আপনাদের ক্ষণস্থায়ী প্রতিনিধি,
অর্থাৎ, -মালিকের প্রতিনিধির প্রতিনিধি।
দয়া ক’রে ‘জনপ্রতিনিধি’-কে ‘জননেতা’ ব’লে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে ‘দলনেতা’-কে ‘জননেতা’ ভেবে ভুল করবেন না।
দয়া ক’রে, -কখনো প্রতিনিধিকে ‘মালিক’ মনে করবেন না ॥
মালিকপক্ষের আপনারা সুযোগ না-দিলে
কোনো প্রতিনিধি কখনো, নিজের খেয়ালখুশি মতো
কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
জনগণের সরকারি সম্পত্তি, সম্মান, ইজ্জত, স্মারক, ফলক,
সরকারের গৌরব, ভৌগোলিক সম্পদ, দখল করতে পারি না ;
-নিজের স্বার্থে অথবা নিজ-দলীয় স্বার্থে, --কখনোই
দখল কিংবা গ্রাস করতে পারি না, -সুযোগ না-পেলে ;
-যেকোনো অবৈধ কর্ম অসম্ভব,-আপনারা সুযোগ না-দিলে ॥
জনপ্রতিনিধির মালিক বা অভিভাবক আপনারা,-জনগণ ;
--সরকার জনগণই যদি নীরব থাকেন!
অথবা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত থাকেন, তো -!
-সরকারের প্রতিনিধি এ-ই আমি, সুযোগ পাবোই পাবো ;
অভিভাবকদের আত্মকোন্দলময় নীরবতায়
নির্দোষ আমি অনিয়ন্ত্রিত স্বভাবদোষে
বেখেয়ালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ নেবো,--
যেমন সিংহদের ঝগড়ার সুযোগে
তাদের শ্রমার্জিত শিকার চ’লে যায় শেয়ালের দখলে।
যারা নিজ নিজ দায়িত্বে-কর্তব্যে-কর্মে সচেতন,
সভ্য জগতে তারাই মালিকপক্ষ সভ্য জনগণ- ; -
সভ্য জগতে জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক থাকতে বাধ্য হন ;
গণমালিকেরা দেন না কোনো অবৈধ আচরণের সুযোগ বা সমর্থন।
-যেখানে যেমন জনগণ,-সেখানে প্রতিনিধিরো তেমনি আচরণ ॥
রঙ্গপুর - ১২/০৪/২০০২ খ্রি:
দ্বান্দ্বিকতা
‘সুযোগের অপব্যবহার’কে অপরাধ হিসেবে
গণনায় না-নিলে, -বস্তুত, -প্রতিনিধিরা নির্দোষ।
যে-জাতি তার প্রতিনিধিদের যথাযথ যত্ন নেয় না,
খোঁজখবর-তদারকি-নজরদারি করে না,
সে-ই জাতির অর্থাৎ জাতসরকারের জনপ্রতিনিধিরা
পরিষদে থাকাকালে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ পায়
এবং পরিষদের বাইরে থাকাকালে
সুযোগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে
বিরোধিতার জন্যেই বিরোধিতা করে।
রঙ্গপুর - ৩০/১১/২০০৩ খ্রি:
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন